
সাভার: সাভারের হেমায়েতপুরে জামায়াতের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর ও লুটপাট করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় তিন জামায়াত কর্মী আহত হন।
আহতরা হলেন—মনির হোসেন (৩৫), মসজিদের মোয়াজ্জিন নাসির উদ্দিন (৪৫) ও জোবায়ের হোসেন (২৫) আহত হন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় আল-আকসা মসজিদের পাশে মোয়াজ্জিন নাসির উদ্দিনের দোকানের সামনে এমন ঘটনা ঘটে।
হামলায় নেতৃত্ব দেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন মুসার ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য শরিফুল ইসলাম। হামলা ও মারধরে আহত তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আল-আকসা মসজিদের পাশে মোয়াজ্জিন নাসির উদ্দিনের দোকানের সামনে জামায়াতের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। হঠাৎ করে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দোকান ভাঙচু র করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং মেডিকেল ক্যাম্পের মালামাল লুট নিয়ে চলে যায়।
ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ নভেম্বর জামায়াতের উদ্যোগে হেমায়েতপুরের প্রভাতি একাডেমী মাঠে মেডিকেল ক্যাম্প করলে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুসার ছোট ভাই শরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একই কায়দায় হামলা করা হয়। মঙ্গলবারও তারা এসে মেডিকেল ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়ে আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে।
পরে হামলায় আহত মনির হোসেন বাদি হয়ে শরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জামায়াতের মেডিকেল ক্যাম্পে হামলার ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, তদন্ত করে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এর আগেও একাধিক হামলার ঘটনায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের অনুসারী হওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুসা, তার ভাই শরিফুল ইসলাম’সহ পাঁচ ভাইয়ের নেতৃত্বে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা দখল, মাদক বাণিজ্য’সহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজি, হত্যা সহ বিভিন্ন মামলা থাকার পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সন্ত্রাসীরা।
Leave a Reply