ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ-
ঢাকার ধামরাইয়ে ৪র্থ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে নারী সহযোগী সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।
বুধবার (২১মে) সকাল ১১টার দিকে গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (২০মে) দিনগত রাতে আশুলিয়া থানার নবীনগর বটতলা এলাকা থেকে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করেন ধামরাই থানা পুলিশ। এই ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার মুংলাকুটি গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুজ্জামান। সে বর্তমানে আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় ইদ্রিস আলীর বাসায় ভাড়া থাকেন, রংপুর জেলার গংগাচরা থানার খাটারি খা বাড়ী গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মোঃ আয়নাল হক সে আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মোঃ কুদ্দুস আলীর বাড়ীর ভাড়াটিয়া, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানা দরগ্রামের মোজ্জামেল হকের ছেলে মোঃ রবিউল আওয়াল, বর্তমানে আশুলিয়া থানার নবীনগর বটতলা এলাকার পুতুলের মার বাড়ীর ভাড়াটিয়া, মেয়ের বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাই থানার সোমভাগ ইউনিয়নের গাওয়াইল গ্রামের বাসিদা।
ভুক্তভোগী ও মামলা সুত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গাওয়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ে বাড়ী ফিরে না আসলে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করি। কিন্তু কোথাও তাকে না পেয়ে ১৭/০৫/২৫ইং তারিখে ধামরাই থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করি। জিডির প্রেক্ষিতে ধামরাই থানার পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০/০৫/২৫ দিনগত রাতে আশুলিয়া থানার নবীনগর এলাকার বটতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ধামরাই থানা পুলিশ। আমার মেয়ের কাছে জানতে পারি গত ১৫/০৫/২৫ইং তারিখে বাড়ীর পাশে শফিকুলের মেয়ে সোহানা বেড়ানোর কথা বলে অপহরণ করে আরিফুজ্জামান এর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আরিফুজ্জামান ঐ স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এরপর আরিফুজ্জামান এর বন্ধু আয়নাল হকের কাছে বুঝিয়ে দিলে, তিনি তার বন্ধু রবিউল আওয়াল এর ভাড়া করা বাসায় নিয়ে রাখে। এরপর সুযোগ বুঝে আয়নাল হক ঐ স্কুল ছাত্রীকে রবিউল আওয়াল এর বাসায় একটি রোমে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে সেই বাসায় স্কুল ছাত্রীকে আটকিয়ে রাখে। এরপর সুযোগ বুঝে আরিফুজ্জামান সেই বাসায় গিয়ে আবারও একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।
এই বিষয়ে উপ-পরিদর্শক( এএসআই)উজ্জ্বল বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ধামরাই থানার গাওয়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণের থানায় একটি জিডি হয়। পরে সেই জিডির আলোকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগের ৪আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।










Leave a Reply